চোখ উঠার লক্ষণ এবং চোখ ওঠা সমস্যার জন্য ঘরোয়া কিছু সাধারণ সমাধান নিম্নে দেওয়া হলো। তবে মনে রাখবেন যে চোখ সম্পর্কিত সমস্যার ক্ষেত্রে একজন ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই প্রয়োজন হবে। যদি সমস্যাটি গুরুত্বপূর্ণ হয় বা এটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে, তবে তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠতে পারে এবং আপনাকে অবশ্যই একটি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
চোখ উঠার লক্ষণ যথাযথ চিকিৎসা পেতে নিম্নের কিছু কমন পদক্ষেপ নিতে পারেন:
1. চোখের প্রস্রাব বা কানের মধ্য থেকে রান্নাঘাট যাওয়া শুরু হলে তা বাধা দিন। যদি কোনো পাতলা বস্ত্র অথবা পাতলা পর্দা আছে, তবে তা চোখের উপর রেখে দিন।
2. যদি চোখের উপর আহতি থাকে, তবে চোখের ওপরে কোনো বস্ত্র দিয়ে সন্তুষ্টি পান।
3. চোখে লব
ণ যুক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে নিন এবং শুষ্ক ও পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করুন চোখের উপর শুষকতা দেওয়ার জন্য।
4. চোখে ব্যথা অনুভব করলে হিমালয় বা পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চোখের উপর প্রেস করুন। এটি চোখের সামান্য প্রস্রাব সমাপ্ত করতে সহায়তা করবে।
5. যদি চোখের উপর আঘাত লগে থাকে এবং এটি ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়, তবে চোখ বন্ধ রাখুন এবং তাতে কোনো চোখের নকশার চেষ্টা করবেন না। চোখ সুস্থ করতে বা চিকিৎসা পেতে সাধারণত 24 থেকে 48 ঘন্টা চোখ বন্ধ থাকলে যথেষ্ট হতে পারে।
যদি চোখ উঠার সমস্যা থাকলে বা আরও কোনো চিকিৎসামূলক সমস্যা দেখা দেয় তবে আপনাকে চিকিৎসাবিদের সাথে অবশ্যই পরামর্শ করতে হবে।
চোখ উঠলে কি কি খাওয়া যাবেনা
চোখ ওঠার সমস্যায় যদি আপনি ভোগে থাকেন তাহলে কিছু খাবার আপনাকে এড়িয়ে চলতে হবে।এই খাবারগুলো এজন্যই এড়িয়ে চলতে হবে যাতে করে আপনি চোখ উঠার সমস্যার ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। চোখ ওঠার সমস্যায় যে সকল খাবারগুলো খাওয়া যাবেনা সেগুলো হল-
১) বেশি চিনিযুক্ত খাবার।
২) রিফাইন্ড খাবার।
৩) প্রসেসড মিট।
৪) অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার।
৫) মার্জারিন।
৬) ক্যান ফুড।
৭) অখাজ খাবার যেমন; ইলিশ, চিংড়ি, বেগুন, সিম ইত্যাদি।
চোখ উঠলে কি কি খাওয়া যাবে
১) পিংক সল্ট।
২) কমলা ও হলুদ রঙের ফল।
৩) সবুজ শাকসবজি।
৪) ত্রিফলা, আমলকি, কিসমিস।
৫) মধু এবং ঘি।
চোখ উঠলে কি ড্রপ ব্যবহার করবেন
অনেক সময় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে চোখ উঠার সমস্যায় চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে হয়। তবে কি ড্রপ ব্যবহার করবেন সেটি জানতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চোখ অতি সেন্সিটিভ অঙ্গ।তাই চোখে কি ড্রপ ব্যবহার করবেন অবশ্যই এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
চোখ উঠলে কতদিন থাকে
সাধারণত দেখা যায় চোখ উঠলে দুই থেকে তিন দিন থাকে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় অনেকের ক্ষেত্রে চোখ উঠলে ৫ থেকে ৭ দিনও লেগে যায় তা সারতে। তবে সাধারণভাবে এই সময়ের বেশি যদি লাগে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চোখ ওঠার সমস্যায় যদি ঝুঁকির মাত্রা বেশি হয়ে যায় তাহলে রোগী অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করবে খাবারগুলো
চোখ উঠলে করনীয় কি
চোখ ওঠার সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে হলে রোগীকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এসব নিয়মকানুন না মানলে রোগী ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। চোখ ওঠার রোগীর জন্য করণীয় কাজগুলো হলো-
১) চোখের নোংরা পানি ধুলাবালি দূষিত বাতাস যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা।
২) সকালে ঘুম থেকে উঠার পর চোখে পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করা।
৩) চোখে হাত লাগানোর পর দুই হাত ভালো করে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা।
৪)আক্রান্ত চোখ পরিষ্কার করার জন্য সব সময় নরম সুতি কাপড় টিস্যু ব্যবহার করতে হবে।
৫) চোখ ওঠার সমস্যা চলাকালীন সময়ে বাইরে গেলে অবশ্যই সানগ্লাস পড়ে যেতে হবে।
৬) যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ তাই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রোগীর থেকে আলাদা জিনিস ব্যবহার করুন।
৭) চোখে ঘনঘন হাত দিবেন না।
৮) চোখ ওঠা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশি থেকে অন্যদের জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই হাঁচি কাশি কমাতে অবশ্যই চিকিৎসা নিবেন।
চোখ উঠার দোয়া
اللهم اني اعوذ بك من شر سمي وشري بصري وشري لساني وشري قلبي وشري مني
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন সাররি সামিয়ি ওয়া সাররী বাসারী ওয়া সাররী লিসানী ওয়া সাররী কলবি সাররী মানিয়্যি।
অর্থ: হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আমার কানের অপকারিতা চোখের অপকারিতা জবানের অপকারিতা অন্তরের অপকারিতা এবং বীর্যের অপকারিতা থেকে আশ্রয় চাই। (মিশকাত আবু দাউদ)
আমাদের সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
চোখ উঠা কি ছোঁয়াচে রোগ?
উত্তর: চোখ উঠা একটি স্পর্শকাতর রোগ।এটি এত বেশি ছোঁয়াচে যে পরিবারের একজনের হলে অন্যদেরও হবার সম্ভাবনা থাকে।
চোখ উঠলে কতদিন থাকে?
উত্তর: চোখ উঠলে সাধারণত তিন থেকে চার দিন থাকে। তবে অনেক সময় ৫ থেকে ৭ দিনও থাকতে পারে।
চোখ ওঠার ড্রপের নাম কি?
উত্তর: চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কোন ড্রপ ই চোখে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকাতে দিনে তিন থেকে চারবার এক ফোটা করে চোখে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ক্লোরামফেনিকল ব্যবহার করতে পারেন।
আমাদের শেষ কথা
আজকের আর্টিকেলে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারগুলো তুলে ধরলাম।ইতোমধ্যে যারা আর্টিকেলটি পড়ে ফেলেছেন তারা জানতে পেরেছেন চোখ ওঠার লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার কি। এমন আরো নতুন নতুন কনটেন্ট পেতে হলে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে থাকবেন। আমরা চেষ্টা করব সঠিক তথ্য দিয়ে আপনাদেরকে উপকৃত করার।
পোস্ট ট্যাগ-
চোখ ওঠার ড্রপ,চোখ উঠলে কি কি খাওয়া যাবে না,চোখ ওঠার উপকারিতা,চোখ ওঠার লক্ষণ ও প্রতিকার,চোখ উঠার ঘরোয়া চিকিৎসা,চোখ ওঠা রোগের ঔষধ,বাচ্চাদের চোখ উঠার ড্রপ,চোখ উঠা কি ছোঁয়াচে।
